Thursday, May 6, 2021

পৃথিবী ফিরে পেলো তার প্রাণ

মহাকাশ স্টেশন পরিভ্রমণ


-অন্তু,তুই ? এটা কি করে সম্ভব।

- কেন?কী হয়েছে।

-না,তুই না কালকে মারা গেলি।

-তুই কী পাগল হয়ে গেছিস?মারা গেলে ফিরে আসতে পারতাম!

-ওহ!তাইতো।ওমম্

-তোতলামী না করে চল একটু বাইরে ঘুরে আসি।বসে থেকে লাভ নেই।

-আচ্ছা চল। কিন্তু...

-কোনো কিন্তু না।তোর পাগলামী এখন বন্ধ কর।

তবে নীলার পাগলামী শেষ হওয়ার নয়। নীলা শুধু ভাবছে অন্তু তো কালকে মারা গেলো, তাহলে ফিরে আসলো কী করে। হঠাৎ করেই তার মনে পড়লো পৃথিবীতে করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস এসেছে প্রায় পাঁচ বছর হলো আর এই পাঁচ বছরে তারা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে মানুষ একদিন ভুলেই গেছিল যে করোনা নামে একটি ভয়ঙ্কর ভাইরাস আছে।

নীলার এখনো মনে আছে তখন সচেতনতার অভাবে তার বাবা মা ভাই বোন সকলেই মারা গেছিলো।আর আত্বীয় স্বজন যারা ছিল তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিল মহাকাশ স্টেশন গুলোতে। পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ চলে গেছিল সেখানে। এখন শুধু পড়ে রয়েছে পৃথিবীতে দুর্গন্ধ যুক্ত লাশ আর কিছু প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বিজ্ঞানীরা এখনো চেষ্টা করে চলেছেন পৃথিবীকে বাঁচাতে। ইদানিং তাঁরা তৈরি করছেন মানব ক্লোন,যা তৈরি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তবে কিছুই করার নেই ,মানুষকে বাঁচাতে এটাই একমাত্র পথ।একটা ক্লোন তৈরি করে সেটার ভিতরে প্রতিষেধক দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় সেই ক্লোনটাকে,এমনই একটা ক্লোন হলো অন্তু।যার কারণে সে ফিরে পেয়েছে আবার তাঁর প্রাণ, বেঁচে আছে এখনো।

নীলা আর অন্তু যখন বাইরে ঘুরতে আসলো তখন দুর্গন্ধ অনুভব করতে লাগল, চেয়ে দেখলো চারদিকে লাশের পর লাশ যেন লাশের সারি।আরো দেখল চোখের সামনে কিছু মানুষকে কাঁশতে,দেখল তাদের নাক দিয়ে বিশ্রী রক্ত পড়তে। লক্ষ্য করলো কিছুক্ষণ পর তাঁরাও মারা গেলো। এমনকি কোন উদ্ভিদও বেঁচে রইলো না,সবুজ ঘাসগুলোরও আর দেখা মেলে না।


অন্তু আর নীলার চোখ যতদূর যায়, শুধু লাশই দেখতে পায়। একটা জীবন্ত মানুষ দেখার আশায় হাঁটতে থাকে তাঁরা। চারদিক নিস্তব্ধ...তখনো।

পরিশেষে কয়েকজনের দেখা মিলল। তাদের শরীর সাদা পোশাকে ঢাকা, তাদের হাতে সেফটি গ্লাস আর অনান্য আসবাবপত্র। একটু বাঁচার আশায় তাদের এই সাজসজ্জা খুব অবাক করেছে নীলাকে।

কিছুক্ষণ পর সেই মানুষগুলো নীলা আর অন্তুকে তাদের মতোই পোশাক আর আসবাবপত্র দিয়ে মুড়িয়ে নিল, বেঁচে গেল অন্তু আর নীলার জীবন।একটা স্পেশশীপে তুলে নিলো তাদের, নিয়ে গেলো অন্ধকার মহাকাশে। কিছু দূর যেতেই লক্ষ্য করলো মহাকাশে অবস্থানরত কিছু স্টেশন -তারার মতো ঝিলমিল করছে,নীলা আর অন্তু খুঁজে পেলো প্রাণের সন্ধান। সেখানে যেতেই কেউ একজন অন্তুকে বুকে জড়িয়ে ধরলো,অন্তু খুঁজে পেলো তাঁর মাকে।আর অভিভাবকহীন নীলা? সেতো অন্তুর সাথেই রয়ে গেল।অন্তুর বাবা মা নীলাকে অন্তুর মতোই দেখে, ভালোবাসে। কারণ এখন মানুষগুলো বুঝতে পেরেছে ভালোবাসার দাম, মানুষগুলো বুঝতে পেরেছে মানবতার মূল্য।

তবে পৃথিবীটা এখন একটা মৃতপুরী,মানবশুন্য। মানুষের বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী, চলে গেছিল মানবতা।এখন পৃথিবীতে এমন কেউই নেই যে কী না বেঁচে আছে, নিউক্লিয়ার বোমা দিয়ে ছাড়খার করে দেওয়া সেই যুদ্ধবাজরাও এখন সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে শুয়ে আছে।আর যারা জীবিত তারা সকলেই এখন মহাকাশ স্টেশনে। 

তাঁর কিছুদিন পরের ঘটনা, পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞানীরা বসে সিদ্ধান্ত নিলেন পৃথিবীকে নতুন করে গড়ার। পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু হলো।এখন আস্তে আস্তে পৃথিবীতে আবার উদ্ভিদ জন্ম নিচ্ছে,সবুজ ঘাসের সন্ধান মিলেছে।

কয়েক বছর পরের ঘটনা, পৃথিবীটা ততক্ষণে বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠেছে। জীবিত থাকা মানুষগুলো মহাকাশ স্টেশন থেকে পাড়ি জমালো আবার পৃথিবীতে। পৃথিবী ফিরে পেলো তার প্রাণ।সবুজ ঘাসের মাঠে অনেক দিন পর ঘুরে বেড়ালো দুই বন্ধু- অন্তু আর নীলা।

প্রোগ্রামিং ভালোবাসি আর ধর্মকে সাথে করে বাঁচতে চাই।অন্যায় আর অধর্মকে ঘৃণা করি।বইয়ের সাথে আমার প্রচুর ভাব। আমার প্রফেশনাল পরিচয় হলো "কম্পিউটারের পোকা"।

0 Comments: