Wednesday, February 3, 2021

ক্লাউড কম্পিউটিং এর ধারণা

তোমরা কি জানো ক্লাউড কম্পিউটিং কী?ক্লাউড কম্পিউটিং হলো বিভিন্ন সেবা সমৃদ্ধ একটি সার্ভার বা নেটওয়ার্ক, যা ব্যাবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সময়ের দরকার হয় না।বুঝলে না,চলো একটি উদাহরণ দেখে নেই- আমরা জানি আমাদের স্মার্টফোনের একটি নির্দিষ্ট স্টোরেজ সীমা থাকে,এর থেকে বেশী স্টোরেজ আমরা ব্যাবহার করতে পারি না। কিন্তু আমাদের আরো স্টোরেজ ব্যাবহার করতে হলে গুগল ড্রাইভের মতো কিছু অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হয়।আর এই অ্যাপ্লিকেশন গুলো হলো ক্লাউড কম্পিউটিং এর উদাহরণ মাত্র।

Cloud Computing
                    ক্লাউড কম্পিউটিং এর ডায়াগ্রাম


ক্লাউড শব্দটি শুনে মনে হতে পারে কম্পিউটিং এর সাথে ক্লাউড বা মেঘের কোনো সম্পর্ক আছে।আসলে কম্পিউটিং এর সাথে ক্লাউড বা মেঘের কোনো সম্পর্ক নেই। নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম আঁকার সময়ে ক্রেতা ও সার্ভারের মাঝের ইন্টারনেট অংশটিকে মেঘ বা ক্লাউডের ছবি এঁকে বুঝানো হয়। তোমরা যদি জিমেইল ব্যবহার করে কোন বন্ধুকে ই-মেইল পাঠিয়ে থাকো,তবে তা ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাবহার করে করা হয়েছে। কারণ এতে তোমার নিজস্ব কোনো সার্ভার ব্যাবহার করতে হয়নি, বরং গুগলের সার্ভারটি ব্যাবহার করেছো। নিচের উদাহরণ টি দেখো তাহলে ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেঃ


ধরো একটি কোম্পানির তিনটি সার্ভার দরকার। এগুলো কিনে সেটআপ করতে অনেক খরচ লাগবে। সবসময় এগুলো ব্যাবহার না করা হলেও খরচ কমানো যায় না। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি যদি ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা নেয়।যেমনঃ আমাজন ডট কমের ক্লাউডে মেশিন ভাড়া নেয়।তাহলে ঘন্টা হিসেবে বিল দিতে খরচ কম পড়বে।যেহেতু মেশিন গুলো অন্য কোম্পানির সার্ভারে তাই সার্ভার সেট আপ করারও কোন ঝামেলা নেই,খরচও নেই।


তোমরা জেনে অবাক হবে যে, বাংলাদেশের নিজস্ব বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাবহার করে কার্যকর করা হয়েছে। যদি তুমি পিপীলিকা সার্চ ইঞ্জিনে কোন তথ্য খুঁজে দেখো,তবে সেটি তোমার কাঙ্খিত তথ্যটি তোমার সামনে প্রদর্শন করবে, কারণ এটি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাবহার করে করা হয়েছে।

Pipilikaসার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাবহার করে কার্যকর করা হয়েছে।              


১৯৬০ সালের দিকে জন ম্যাক ক্যার্থি ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে ধারণা দেন।তার মতে 'Computation may someday be organized as a public utility' অর্থাৎ 'কম্পিউটেশন একদিন সংগঠিত হবে পাবলিক ইউটিলিটি হিসেবে'।তবে ১৯৯০ সালের এই ধারণাটি একটি অবস্থানে পৌঁছায়।নব্বই এর দশকে বড় বড় কোম্পানিগুলো ব্যাবসার আশায় ডেটা সেন্টার আর নেটওয়ার্কে বিশাল বিনিয়োগ করে,ফলে তাড়াতাড়ি তারা দেউলিয়া হয়ে পড়ে।এই সময়েই শুরু হয় Real Time Cloud Computing এর যাত্রা।

Cloud Computing


বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং দ্রুতগতিতে অভাবনীয় সাফল্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে।হয়তো একদিন অফিসে আসার সময় ভুল করে বাড়িতে ল্যাপটপ রেখে চলে আসবো আর অফিসে এসে অফিসের ল্যাপটপ দিয়ে বাড়িতে রাখা ল্যাপটপের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে ফেলবো।কত সহজ হবে বলতো!

প্রোগ্রামিং ভালোবাসি আর ধর্মকে সাথে করে বাঁচতে চাই।অন্যায় আর অধর্মকে ঘৃণা করি।বইয়ের সাথে আমার প্রচুর ভাব। আমার প্রফেশনাল পরিচয় হলো "কম্পিউটারের পোকা"।

1 comment:

  1. খুব সুন্দর করে লিখেছেন 🙂।

    ReplyDelete