Friday, December 25, 2020

ইন্টারনেটের অদৃশ্য জগৎ,যা আমরা জানি না

 

Dark web

আমরা ভাবি ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ আমাদের হাতের মুঠোয় সব। কিন্তু আসলে কী তাই। আসলেই কি আমাদের হাতের নাগালে সব কিছু। কিন্তু argusleader.com প্রতিবেদনে বলা হয় ইন্টারনেটের পুরো দুনিয়ার মাত্র ৪% আমরা জানি।

Argus leader

আর এটাই হচ্ছে দৃশ্যমান জগৎ। কিন্তু বাকি ৯৬% ইন্টারনেট তাহলে কোথায়, কোথায় সেই অদৃশ্য জগৎ।Google,Yahoo, Bing সার্চ ইঞ্জিনের প্রভাবে হয়ত আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিসই পেয়ে যাচ্ছি অনেক সহজেই। কিন্তু আমরা কি আদৌ জানি যে, এই ইন্টারনেট দুনিয়ায় অদৃশ্যমান আরও একটি জগত আছে। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, এই ইন্টারনেটের অদৃশ্যমান জগতের ব্যাপ্তি মোট ইন্টারনেট দুনিয়ার প্রায় ৯৬% জুড়ে বিদ্যমান। ইন্টারনেটের উপাদান কে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।যথা:১) সার্ফেস ওয়েব ২)ডিপ ওয়েব ও ৩) ডার্ক ওয়েব। ইন্টারনেটের অদৃশ্য অন্ধকার জগৎ ডার্ক ওয়েব সম্পর্কিত কিছু জানার আগে আমরা পরিচিত হব ইন্টারনেটের প্রথম দুইটি উপাদানের সাথে।

Surface Web বা দৃশ্যমান ওয়েবঃ সাধারণ ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ওয়েবে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যে সকল ডাটা খুজে পায় তাকে বলা হয় সার্ফেস ওয়েব। ২০১৭সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি argusleader.com নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়,এই সার্ফেস ওয়েব পুরো ইন্টারনেটের মাত্র ৪%। এসকল ওয়েব সাইট সাধারণ ইউজার পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে।যেমন: গুগল,ইয়াহু ও ফেসবুকের মতো সামাজিক ওয়েব সাইট।এসব ওয়েব সাইট ব্রাউজারে সার্চ করলে সাথে সাথে পাওয়া যায়।

Dark web


Deep Web বা অদৃশ্য ওয়েবঃ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের যে অংশ সাধারণ ভাবে খুজে পাওয়া যায় না; ইন্টারনেট ও ওয়েবের ভেতরে সম্পূর্ণ রহস্যময় এই অংশে সবরকম বৈধ, অবৈধ তথ্য বিদ্যমান। একেই ডিপ ওয়েব বলা হয়।ডিপ ওয়েব মূলত কিছু নির্দিষ্ট ব্যাক্তি অথবা অথরাইজড পার্সনরা ব্যবহার করতে পারে। সাধারণ ব্রাউজারে হাজার চেষ্টা করেও এসকল ওয়েব সাইট খুজে পাওয়া যায় না।এখানে সরকারী, দেশের বিভিন্ন তথ্য, বিভিন্ন মেডিকেল রিপোর্ট, গবেষণা তথ্য সংরক্ষণ থাকে। কিন্তু এর ভেতরে আলাদা আরেকটি অংশ রয়েছে।যেটিকে ইন্টারনেটের অদৃশ্য অন্ধকার অপরাধ জগৎ বলা হয়ে থাকে। যাকে বলে ‘ডার্ক ওয়েব'।

Dark web বা অদৃশ্য অন্ধকার জগৎ ওয়েবঃএটি মূলত ডিপ ওয়েবের একটি গভীর অংশ।এখানে এমন কোন অপরাধ নেই,যা এখানে হয় না।এসকল সাইটগুলোর ডোমেইন নেম গুলো খুব অদ্ভুত।যেমনঃ http://zqktlwi4fecvo6ri.onion/। সাধারণ ব্রাউজারে হাজার হাজার চেষ্টা করলেও এসকল সাইট খুজে পাওয়া যাবেনা।কেননা এসকল সাইট নির্দিষ্ট ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয়। এরকম একটা ব্রাউজার হলো টোর।আপনি Tor যে কোন পিসিতে ব্যবহার করতে পারেন, Mac বা এমনকি আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনের যেকোন মোবাইল ডিভাইস।কিন্তু, যদি আপনি ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে আগে Torbutton ইনস্টল করতে হবে। Torbutton ইনস্টল করার পর, আপনি আপনার ব্রাউজারের এড্রেস বারে কাছাকাছি পেঁয়াজের মত লোগো দেখতে পাবেন। যদি আপনি সঠিকভাবে Tor নেটওয়ার্কের লগইন করেন, তাহলে আপনি Deep Web অন্বেষণ করা শুরু করতে পারবেন।


কিন্তু, মনে রাখবেন, এখানে আপনি দৃশ্যমান web এর মত কোন কিছু খুজে পাবেন না, কারণ এখানে Google-এর মত কোন সার্চ ইঞ্জিন নেই যে আপনি মুহুর্তের মধ্যে সব কিছু খুজে পাবেন। পরিবর্তে, এটা Wikis এবং BBS-এর মত aggregatet link যা আপনাকে Deep Web-এর location দেখাবে। এই সাইটগুলি সাধারণত উদ্ভট এবং Unmemorable!এসকল ওয়েবসাইট গুলোতে সকল ধরনের অপরাধ চলে। মনে করা হয় এসকল সাইটগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (Central Intelligence Agency-CIA) এর নিয়ন্ত্রিত।তবে যাই হোক এ জগৎটা যে খারাপ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা এসকল সাইটগুলোতে পর্নোগ্রাফি,ড্রাগস বেচাকেনা হয়, অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করা হয়। মূলত এই সাইটগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা ।অপরাধ জগতের প্রায় সকল প্রকার কাজ এখানে করা যায়। মাদক দ্রব্য থেকে শুরু করে ভাড়া করা কিলার(টাকার বিনিময়ে খুন করে) এখানে পাওয়া যায়। কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ কাজগুলো যেমন শিশু পর্নোগ্রাফি, পতিতা ভাড়া করা, ড্রাগ কেনা-বেচা, অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় ও পাসপোর্ট যোগার, চুরি করা ক্রেডিট কার্ড নম্বরসহ ইত্যাদি অন্যান্য অবৈধ ও নিষিদ্ধ জিনিস পাওয়া যায়।ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মতো এখানেও আছে বিভিন্ন ধরনের সাইট। রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, উইকিপিডিয়া, ব্লগ, ইমেইল সার্ভিসের মত সাইট। কিন্তু এগুলো আলাদা ভাবে তৈরী করা। তা ছাড়া যে সব সাইট গুলোকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেই সব সাইটও আছে।যেমনঃসাই-হাব(যার ডোমেইন নেম ব্লক করে রাখা হয়)। আমাদের জানা অজানা অনেক বিষয় এই ডার্ক ওয়েবে বিদ্যমান, কিন্তু সম্পূর্ণ গোপনভাবে।ধারনা করা হয় যে, যেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা হয়, তার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কোন প্রশাসনের কাছে রয়েছে। ২০১১ সালে একবার Tor এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এটি নাকি সিআইএ-এর একটি স্পাই নেটওয়ার্ক। তাছাড়া আপনি যদি আপনার আসল পরিচয় প্রকাশ করেন বা কোন ভাবে প্রকাশ হয়ে যায় তাহলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।

Tor

এই অন্ধকার জগৎ পারি দেওয়া আসলেই দুঃসাহসিক ব্যাপার।

প্রোগ্রামিং ভালোবাসি আর ধর্মকে সাথে করে বাঁচতে চাই।অন্যায় আর অধর্মকে ঘৃণা করি।বইয়ের সাথে আমার প্রচুর ভাব। আমার প্রফেশনাল পরিচয় হলো "কম্পিউটারের পোকা"।

1 comment:

  1. খুব ভালো লিখেছেন 🙂

    ReplyDelete