Friday, December 25, 2020

ইমো- সমাজ নষ্টের মূল হোতা

 

Imo app

বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এমন কেউ নেই  যে কী না ইমো (Imo) অ্যাপের নাম শুনেনি। বাংলাদেশের সাধারণ অসাধারণ সকল মানুষের কাছে পরিচিত এই অ্যাপটি।


ইমো হলো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন।বিশ্বে প্রায় ২১ কোটি মানুষ প্রতি মাসে এই মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে থাকে।বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইমো ব্যাবহারকারী কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।কবে?কীভাবে? এই অ্যাপটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠে তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না।তবে ধারণা করা হচ্ছে সৌদি প্রবাসীদের হাত ধরে এটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

Middle East
                              চিত্রঃ মধ্যপ্রাচ্য

আমরা জানি বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক তার ভাগ্য অন্বেষণের জন্য মধ্যপ্রাচ্য কে বেছে নেয়।আর সেখান থেকেই অধিকাংশ জনশক্তি আমদানি করে সৌদি আরব। ভাগ্য অন্বেষণের জন্য ছুটে যাওয়া সেই সব তরুণরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে ইমোর প্রচলন করে । জানা যায় বাংলাদেশের অনেক আগেই সৌদি আরবে ইমোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। সেখান থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাত ধরে আমাদের দেশে ইমোর প্রচলন শুরু হয়।


আমি যেই মুহুর্তে এই লেখাটি লিখছি ঠিক একই মুহূর্তে পৃথিবীতে ঘটে যাচ্ছে না না ঘটনা।গত বছরখানেক ধরে ইমো ব্যাবহারকারী অনেক মানুষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অশ্লীল ভিডিও আর বাজে নোটিফিকেশনে গরম হয়ে ওঠছে ইমো।আর এই ইমো নিয়েই মামলা আর হয়রানি।কী আছে এই ইমোতে?যা নষ্ট করে দিচ্ছে আমাদের সমাজকে।


২০১৬ অথবা ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায় ইমোর ব্যাবহার।ইমো ছাড়াও যে আরো অনেক মেসেজিং অ্যাপ আছে তাও জানতো না দেশের মানুষ। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে ইমোর পাশাপাশি মানুষ এখন জানে হোয়াটসঅ্যাপের ও নাম। আধুনিক এই যুগে  ইমো সেক্স গার্ল নামে ভার্চুয়াল পতিতাও সৃষ্টি হয়েছে। নোংরামিতে মেতে উঠেছে গোঁড়ামিরা। নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ। আমাদের অজান্তেই আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।



সম্প্রতি ইমো অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে 'My planet' নামে নতুন একটি ফিচার। যেখানে প্রবেশ করলে দেখা যায় নোংরা নোংরা পোস্ট। শুধু তাই নয় ইমোর হুম স্ক্রিনে For you নামে একটি অপশন আছে,যেখানে ক্লিক করার সাথে সাথে My planet নামের ফিচারে চলে যায়। এছাড়াও Data Connection অথবা Wireless Connection (Wi-Fi) দেওয়া হলে ইমোতে আসা বাজে পোস্ট গুলো নোটিফিকেশন হিসেবে মোবাইলে চলে আসে।এতে সবাই বিরক্তিকরবোধ করে।যদিও এর থেকে বাঁচার উপায় আছে। কিন্তু অ্যাপসে প্রবেশ করলে সেই বাজে নোংরা পোস্ট আর মেসেজই দেখতে হয়।



এসব এডার্ল্ট পোস্টগুলো দেখার পর শিশুরা নোংরা রুচি ও মানসিকতায় বেড়ে ওঠতে পারে। সমাজে ব্যাভিচার বেড়ে যেতে পারে। পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা বেশি।পর্ন সাইটগুলোর (Porn Sites)প্রতি আগ্রহ বেড়ে যেতে পারে।তাই আমাদের সময় থাকতে সাবধান হতে হবে। নতুবা সমাজ রসাতলে চলে যাবে।তাই আমাদের এমন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত যার মাধ্যমে আমাদের প্রজন্ম ও সমাজ ধ্বংসের পথে যেন না চলে যায়। বরং এমন অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত,যা দেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আরো নতুন নতুন মেসেজিং অ্যাপ তৈরি করে আমাদের সমাজকে উপহার দিতে পারে।


প্রোগ্রামিং ভালোবাসি আর ধর্মকে সাথে করে বাঁচতে চাই।অন্যায় আর অধর্মকে ঘৃণা করি।বইয়ের সাথে আমার প্রচুর ভাব। আমার প্রফেশনাল পরিচয় হলো "কম্পিউটারের পোকা"।

3 comments:

  1. #BoycottImo

    ReplyDelete
  2. এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়া উচিৎ। এ বিষয়ে আমিও ব্লগে আর্টুকেল লিখবো।

    ReplyDelete
    Replies
    1. হ্যাঁ ভাইয়া আসলেই আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।আর আপনার নতুন আর্টিকেল এর অপেক্ষায় থাকলাম।

      আমি আপনার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করে রেখেছি। নতুন কোনো আর্টিকেল এলেই আমার ই-মেইলে চলে আসে।

      আর আপনার ব্লগগুলো খুব ভালো।

      Delete