Friday, May 28, 2021

বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজঃ পতাকা

শিশু কিশোরদের প্রোগ্রামিং এর প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ড্যাফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী প্রোগ্রামার ইকরাম হোসেন, রাকিব হাসান অমিয় এবং ওসমান গনী নাহিদ বাংলা ভাষায় একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ডেভলপ করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে পতাকা বেটা ভার্সন ১।

পতাকা


অন্যান্য দেশগুলোতে শিশুরা অল্প বয়স থেকেই প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করে, কিন্তু বাংলাদেশের শিশু কিশোররা সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।এর মূল কারণ হলো প্রোগ্রামিং এর ভয়।আর এই ভয় কাটানোই হলো পতাকার প্রাথমিক উদ্দেশ্য।


পতাকার সিনট্যাক্স গুলো এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যে পড়লে মনে হবে এগুলো সহজাত বাংলা বাক্য।আর কোড লিখার জন্য পতাকায় রয়েছে কোড হাইলাইটিং সহ চমৎকার একটি অনলাইন কোড এডিটর। শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার ফলে প্রোগ্রামিং এর প্রতি ভয় কেটে যাবে এবং আগ্রহের সৃষ্টি হবে।

/* পতাকা();

* মজার মজার কোড লিখুন! রান করুন! সাবমিট করুন!

*/

//*** প্রোগ্রাম: বড় না বড় ? ***//

যদি( থেকে বড় হয়){

দেখাও("বল্টুঃ আমি আগেই জানতাম ৪ বড়।");

}নাহলে{

দেখাও("পল্টুঃ ঘোড়ার ডিম");

}

//*** প্রোগ্রাম: নন্দলাল ***//

ধরি জগত = "সুন্দর";

যদি (জগত দেখতে "সুন্দর" হয়){

দেখাও("থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে দেখবো এবার জগতটাকে");

}নাহলে{

দেখাও("আমি নন্দলাল হব, এ জগতকে ভয় পাব");

}


তবে যারা প্রোগ্রামিং-এ দক্ষ তাদের জন্য পতাকা শেখা উচিত নয়।এ নিয়ে পতাকার ডকুমেন্টেশনটি পড়তে পারো- http://potaka.io/docs


সেখানে লেখা রয়েছে "ইতিমধ্যেই যারা প্রোগ্রামিং এর বেসিক জিনিস গুলোতে দক্ষ তাদের জন্য পতাকা নয়। সি/সি++ কিংবা অন্য যেকোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর সিনট্যাক্স দেখে যারা ভয় পায় বা সর্বোপরি প্রোগ্রামিং বিষয়টা বুঝতে যাদের সমস্যা হয় এবং কিশোর কিশোরীদের প্রাথমিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবেই পতাকা ভূমিকা রাখতে পারে।''


বর্তমানে পতাকার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন কম্পাইলার এবং বেশ কিছু ভিজুয়াল গেম রয়েছে। পতাকার ওয়েবসাইট- http://potaka.io

Wednesday, May 19, 2021

সুডোকোড  (Pseudocode) কী?
একটি সুডোকোড

আমরা যারা একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ি তাঁরা সবাই জানি যে অ্যালগরিদম রচনা করার জন্য সুডোকোড তৈরির প্রয়োজন হয়।আজ আমরা এই সুডোকোড (Pseudocode) সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।সুডো (Pseudo) শব্দটি হলো গ্রিক যার অর্থ ছদ্ম আর সুডোকোডের অর্থ দাঁড়ায় ছদ্ম কোড বা ছদ্ম প্রোগ্রাম।
আসলে সুডোকোড কোনো কোড কিংবা প্রোগ্রাম নয়,যার কারণে সুডোকোড এক্সিকিউট হয় না।সহজ ভাষায় বললে সুডোকোড হলো এক ধরনের লেখা যা কোনো প্রোগ্রামের ব্যাখা প্রদান করে।

বিষয়টি বুঝার জন্য নিচের লেখাগুলো লক্ষ্য করোঃ

numbercount is 0
list
while the number count <= 9
ask for input
add one to number count
add number to list
print numbers on a separate line each time

দেখো এখানে আমরা যা লিখেছি তা কিন্তু অনেকটাই আসল প্রোগ্রামের মতোই দেখতে।তবে আসল প্রোগ্রাম নয় বরং আসল প্রোগ্রামটির ব্যাখা,এই ধরনের ছদ্ম প্রোগ্রামকেই মূলত সুডোকোড বলে। এবার চলো আসল প্রোগ্রামটি দেখি।

numcount = 0

lis = []

while numcount <= 9: #This program is written using Python

number=input("Enter a number: ")

numcount = numcount + 1

lis.append(number)

print ("The numbers you entered were: ")

print ("\n".join(lis))




কী দেখলে! বলেছিলাম না সুডোকোড কোনো কোড নয়।এই তুমি কি জানো,সুডোকোড কেন এত কষ্ট করে লেখা হয়।কেন শুধু শুধু আসল প্রোগ্রামটিকে নকল করা হয়।তবে চলো জানি।

অনেক সময় এই ধরনের ছদ্ম প্রোগ্রাম রচনা করতে হয় কারণ এই ছদ্ম প্রোগ্রাম বা সুডোকোড (Pseudocode) প্রোগ্রামারদের অ্যালগরিদম রচনায় সাহায্য করে। পরবর্তীতে প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে সেটা সহজেই এই সুডোকোড দেখেই বোঝা যায় অন্যথায় এমন অনেক প্রোগ্রাম আছে যেগুলো দেখে বুঝাই যায় না আসলে প্রোগ্রামটি কী কাজ করছে।

Sunday, May 9, 2021

আর্টিকেল নিরাপদ রাখার কৌশল
আর্টিকেল নিরাপদ রাখার কৌশল

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সাইবার অপরাধের পরিমাণও বেড়ে গেছে। তেমনি একটি সাইবার অপরাধ হলো কারো লেখা হুবহু কপি করা, এককথায় যাকে বলা হয় প্লেজারিজম। ইন্টারনেট দুনিয়ায় অধিকাংশ ব্লগার বা লেখকরা এর শিকার হয়ে থাকেন।

মানুষ প্রকৃতিগত ভাবেই কোনো না কোনো বিষয়ে সৃজনশীল। তেমনি লেখক, সফটওয়্যার নির্মাতা, আর্টিস্ট তাঁরা সবাই এক এক বিষয়ে সৃজনশীল। তাদের এই সৃজনশীল কাজগুলো চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াকে বলা হয় প্লেজারিজম। বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ হওয়ায় কারোর সৃজনশীল কাজ হুবহু নকল করা খুব সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ধারণা করা হয়,আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন ব্লগারগণ অর্থাৎ যারা ইন্টারনেটে লেখালেখি করেন।

ব্লগারগণ যদি সচেতন হয় তাহলে খুব সহজেই তাঁর লেখাগুলোর নিরাপত্তা সে নিশ্চিত করতে পারে। আজকে আমরা এরকমই একটি পদ্ধতি অনুসরণ করবো,যার দ্বারা পোস্ট বা আর্টিকেল গুলো কপি করা থেকে বাঁচানো যায় এবং খুব সহজেই লেখাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে তাঁর আগে আমাদের জানতে হবে যারা অন্যোর লেখা চুরি করে থাকে, তাঁরা কীভাবে সেটা করে। তাঁরা মূলত যেই কাজটি করে থাকে তা হলো ভিকটিমের ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করে ওয়েবসাইটটিতে থাকা লেখা বা Text গুলো কপি করে নেয়, তারপর নিজের নামে সেটা চালিয়ে দেয়।

কপি করা
যেভাবে ওয়েবসাইট থেকে লেখা কপি করা হয়


সুতরাং লেখাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের লেখা বা Text যেন ওয়েবসাইটটি থেকে কপি করা না যায় সেটার একটা ব্যাবস্থা করতে হবে। তারজন্য আমরা করবো কী,যেই ওয়েবসাইটটিতে লেখাগুলো রয়েছে অর্থাৎ সেই ওয়েবসাইটটির মূল ফাইলগুলোতে <body> ট্যাগের ভিতরে কিছু কোড লিখব,যা আমাদের লেখাগুলো Copy করা থেকে প্রটেক্ট করবে।

উদাহরণ
<body>ট্যাগের ভিতরে কোডগুলো লিখতে হবে

আর যদি ওয়েবসাইটটি ব্লগার দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে তাহলে ব্লগারে HTML/JavaScript Gadget যুক্ত করতে হবে। তারপর উক্ত Gadget-এ কোডগুলো লিখে নিলেই হবে।

HTML/JavaScript Gadget
HTML/JavaScript Gadget যুক্ত করা

কোডগুলো লেখা হয়েছে জাভাস্ক্রীপ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যাবহার করে। কোডগুলো পাওয়া যাবে এই ওয়েবসাইটে -https://nigaircopyprotect.netlify.app/ সেখান থেকে কোডগুলো ডাউনলোড করা যাবে আবার চাইলে হোম পেজ থেকে কোডগুলো কপি করে নিলেই হবে। এই কোডগুলো কাউকে ওয়েবসাইট থেকে লেখা বা Text কপি করার সুযোগ বন্ধ করে দেবে,ফলে আর্টিকেল গুলোও নিরাপদ থাকবে।

Thursday, May 6, 2021

পৃথিবী ফিরে পেলো তার প্রাণ
মহাকাশ স্টেশন পরিভ্রমণ


-অন্তু,তুই ? এটা কি করে সম্ভব।

- কেন?কী হয়েছে।

-না,তুই না কালকে মারা গেলি।

-তুই কী পাগল হয়ে গেছিস?মারা গেলে ফিরে আসতে পারতাম!

-ওহ!তাইতো।ওমম্

-তোতলামী না করে চল একটু বাইরে ঘুরে আসি।বসে থেকে লাভ নেই।

-আচ্ছা চল। কিন্তু...

-কোনো কিন্তু না।তোর পাগলামী এখন বন্ধ কর।

তবে নীলার পাগলামী শেষ হওয়ার নয়। নীলা শুধু ভাবছে অন্তু তো কালকে মারা গেলো, তাহলে ফিরে আসলো কী করে। হঠাৎ করেই তার মনে পড়লো পৃথিবীতে করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস এসেছে প্রায় পাঁচ বছর হলো আর এই পাঁচ বছরে তারা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে মানুষ একদিন ভুলেই গেছিল যে করোনা নামে একটি ভয়ঙ্কর ভাইরাস আছে।

নীলার এখনো মনে আছে তখন সচেতনতার অভাবে তার বাবা মা ভাই বোন সকলেই মারা গেছিলো।আর আত্বীয় স্বজন যারা ছিল তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিল মহাকাশ স্টেশন গুলোতে। পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ চলে গেছিল সেখানে। এখন শুধু পড়ে রয়েছে পৃথিবীতে দুর্গন্ধ যুক্ত লাশ আর কিছু প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বিজ্ঞানীরা এখনো চেষ্টা করে চলেছেন পৃথিবীকে বাঁচাতে। ইদানিং তাঁরা তৈরি করছেন মানব ক্লোন,যা তৈরি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তবে কিছুই করার নেই ,মানুষকে বাঁচাতে এটাই একমাত্র পথ।একটা ক্লোন তৈরি করে সেটার ভিতরে প্রতিষেধক দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় সেই ক্লোনটাকে,এমনই একটা ক্লোন হলো অন্তু।যার কারণে সে ফিরে পেয়েছে আবার তাঁর প্রাণ, বেঁচে আছে এখনো।

নীলা আর অন্তু যখন বাইরে ঘুরতে আসলো তখন দুর্গন্ধ অনুভব করতে লাগল, চেয়ে দেখলো চারদিকে লাশের পর লাশ যেন লাশের সারি।আরো দেখল চোখের সামনে কিছু মানুষকে কাঁশতে,দেখল তাদের নাক দিয়ে বিশ্রী রক্ত পড়তে। লক্ষ্য করলো কিছুক্ষণ পর তাঁরাও মারা গেলো। এমনকি কোন উদ্ভিদও বেঁচে রইলো না,সবুজ ঘাসগুলোরও আর দেখা মেলে না।


অন্তু আর নীলার চোখ যতদূর যায়, শুধু লাশই দেখতে পায়। একটা জীবন্ত মানুষ দেখার আশায় হাঁটতে থাকে তাঁরা। চারদিক নিস্তব্ধ...তখনো।

পরিশেষে কয়েকজনের দেখা মিলল। তাদের শরীর সাদা পোশাকে ঢাকা, তাদের হাতে সেফটি গ্লাস আর অনান্য আসবাবপত্র। একটু বাঁচার আশায় তাদের এই সাজসজ্জা খুব অবাক করেছে নীলাকে।

কিছুক্ষণ পর সেই মানুষগুলো নীলা আর অন্তুকে তাদের মতোই পোশাক আর আসবাবপত্র দিয়ে মুড়িয়ে নিল, বেঁচে গেল অন্তু আর নীলার জীবন।একটা স্পেশশীপে তুলে নিলো তাদের, নিয়ে গেলো অন্ধকার মহাকাশে। কিছু দূর যেতেই লক্ষ্য করলো মহাকাশে অবস্থানরত কিছু স্টেশন -তারার মতো ঝিলমিল করছে,নীলা আর অন্তু খুঁজে পেলো প্রাণের সন্ধান। সেখানে যেতেই কেউ একজন অন্তুকে বুকে জড়িয়ে ধরলো,অন্তু খুঁজে পেলো তাঁর মাকে।আর অভিভাবকহীন নীলা? সেতো অন্তুর সাথেই রয়ে গেল।অন্তুর বাবা মা নীলাকে অন্তুর মতোই দেখে, ভালোবাসে। কারণ এখন মানুষগুলো বুঝতে পেরেছে ভালোবাসার দাম, মানুষগুলো বুঝতে পেরেছে মানবতার মূল্য।

তবে পৃথিবীটা এখন একটা মৃতপুরী,মানবশুন্য। মানুষের বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী, চলে গেছিল মানবতা।এখন পৃথিবীতে এমন কেউই নেই যে কী না বেঁচে আছে, নিউক্লিয়ার বোমা দিয়ে ছাড়খার করে দেওয়া সেই যুদ্ধবাজরাও এখন সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে শুয়ে আছে।আর যারা জীবিত তারা সকলেই এখন মহাকাশ স্টেশনে। 

তাঁর কিছুদিন পরের ঘটনা, পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞানীরা বসে সিদ্ধান্ত নিলেন পৃথিবীকে নতুন করে গড়ার। পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু হলো।এখন আস্তে আস্তে পৃথিবীতে আবার উদ্ভিদ জন্ম নিচ্ছে,সবুজ ঘাসের সন্ধান মিলেছে।

কয়েক বছর পরের ঘটনা, পৃথিবীটা ততক্ষণে বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠেছে। জীবিত থাকা মানুষগুলো মহাকাশ স্টেশন থেকে পাড়ি জমালো আবার পৃথিবীতে। পৃথিবী ফিরে পেলো তার প্রাণ।সবুজ ঘাসের মাঠে অনেক দিন পর ঘুরে বেড়ালো দুই বন্ধু- অন্তু আর নীলা।

Friday, April 30, 2021

ভালোবাসার টাইম ট্রাভেল
ভালোবাসার টাইম ট্রাভেল



ঢাকায় আমি তখন নতুন, নতুন কলেজ জীবন। বনশ্রীর একটা ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে উঠে পরলাম। আমি আর রাসেল একসাথে থাকতাম। রাসেল আমার ছোট বেলার বন্ধু। তবে সে যখন ক্লাস নাইনে উঠল তার বাবা তাকে ঢাকার একটি স্কুলে ভর্তি করে দেয়। অনেক দিন পর বন্ধুর সাথে দেখা হওয়ায় টই টই করে ঘুরে বেড়াই। দিনকাল এমনভাবেই চলছিল তখন।

তবে একদিন সকালে রাসেল এসে ডাকায় তাড়াহুড়ো করে রওনা দিতে হলো। বেচারার কলেজে নাকি আজ নববর্ষের অনুষ্ঠান। তার থেকেও বড় কথা আজ রাসেল মিতুকে প্রপোজ করবে। রাসেল আর মিতুর বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রায় এক বছর। এতটা সময় মিতুর সাথে থাকতে থাকতে কখন যে মিতুকে সে ভালোবেসে ফেলেছে সেটা সে নিজেই জানে না। আজ রাসেল প্রপোজ করবে—তাই কীভাবে কী করতে হবে সব দায়িত্বটাই আমার উপরে দেওয়া হলো। তাই পরিকল্পনা মতো দেরি না করেই রওনা দিলাম।

গাড়িতে উঠলাম। রাস্তায় জ্যাম। তার ওপর আবার প্রচন্ড গরম। আমি গরম সহ্য করতে পারি না। তাই মনে মনে বকছিলাম রাসেলকে—শালা প্রেম করবি তুই আর সব করব আমি।

গাড়ি থামল। হেঁটে হেঁটে গেলাম রাসেলের কলেজের সামনে, গেইটে ইয়া বড় করে লেখা 'সরকারি বিজ্ঞান কলেজ'। কথামতো ক্যাম্পাসে হাজির মিতু, থুক্কু শুধু মিতু না তাদের বান্ধবীরাও তার সাথে। তাদের মধ্যে একজনকে খুব ভালো লাগছিলো আমার, তার চোখগুলোও ছিল খুব সুন্দর—পরক্ষনেই তার নাম দিলাম অপরূপা। একবার তাকাতেই মনটা জুড়িয়ে গেলো। ভাবলাম আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকবো অপরূপার দিকে কিন্তু রাসেল—সে থাকতে দিলো না। পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলছে, দোস্ত, কিছু একটা কর, যেভাবেই হোক তাঁর সাথে কিছু একটা করিয়ে দে।

এই যে, 'কিছু একটা করিয়ে...' দেওয়ার সাধ্য যে আমার নেই তা রাসেলকে কখনোই বুঝানো সম্ভব না। তবে কথা যখন দিয়েছি সেটা তো করতেই হবে। তাই বেশি দেরি করলাম না। বুকভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়ে চোখগুলো বন্ধ করে বলেই ফেললাম—এই মিতু, রাসেল তোমাকে পছন্দ করে। হুশ ফিরলে অনুভব করলাম আমার কপাল থেকে ঘাম ঝরছে। চোখ মেলে দেখলাম মিতুর বান্ধবীরা হাসাহাসি করছে। কি জন্য হাসছে সেটা বুঝতে আমার দেরি হয়নি, এমন একটা ছেলে কথা বলতে গিয়ে ভয়ে যার কি-না শার্টটা ভিজে যায় তাকে দেখে না হাসাটাও কেমন জানি বোকামি।

কিছুটা লজ্জিত অনুভব করার সময় মিতুর সেই অপরূপা বান্ধবী কানের কাছে বলে গেলো বিকালে যেন রাসেলকে নিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানে ঘুরতে আসি। হাতে যেনো একটা আলাদীনের চেরাগ পেয়ে গেলাম, আর আটঁতে লাগলাম অপরুপাকে পটানোর নিন্জা টেকনিক।

খুশিতে আত্মহারা হয়ে যখন বোকার মতো লাফ দিয়ে উঠলাম, মনে হলো রাসেল নয় বরং আমিই প্রেম করার চান্স পেয়ে গেছি। রাসেলের দিকে তাকিয়ে মিতু যখন কিছুটা মুচকি হেসে পাশ দিয়ে চলে গেলো—বুঝতে পারলাম ঢাকায় আসার পর আমার ফার্স্ট মিশন কমপ্লিট।

তখন বিকেল সাড়ে তিনটা। রাসেলকে নিয়ে বেরিয়ে গেলাম আমি, আমার যাওয়ার উৎসাহ দেখে রাসেল খানিকটা অবাক। হয়তো মনে মনে বলছে, প্রেম কী আমি করতে যাচ্ছি, নাকি সে। ওর ভাবাভাবির শেষ পর্যন্ত সে খানিকটা চুপ করেই ছিল। সবে বাসে উঠে এক ভদ্রলোকের পাশে বসে পড়লাম আমি। আচমকা কেমন জানি ঘুম ঘুম পাচ্ছিল চোখে। মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ডুব দিলাম ঘুমের সাগরে। অপরূপার চেহারাটা চোখে ভাসছে তখন; কী সুন্দর চোখ—যেন হরিণীর মতো।

চোখ মেলেই দেখি একটা ইয়া বড় ঘরের ভিতরে আমি। আবিষ্কার করলাম এটা কোন ঘর না, অত্যাধুনিক একটা ল্যাব। ল্যাবে কাজ করছে পাঁচ থেকে দশ জনের একটি দল। কিছুক্ষণ পর আইনস্টাইনের মতো উশখো খুশকো চুল টাইপের একটা লোক আমার সামনে আসলো এবং 'ওয়েলকাম টু বায়োলজি রিসার্চ সেন্টার অব এমআইটি' বলে স্বাগত জানালো। বুঝতে পারলাম আমাকে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বসেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় এম আই টি-এর একটি ল্যাবে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু ল্যাবটার প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে আমি হাঁ করে চেয়ে আছি। আমি যখন এসব ভাবছি তখন কে যেন অপরূপাকে আমার সামনে নিয়ে আসলো, আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এতক্ষণ একা থাকতে থাকতে খুব খারাপ লাগছিল, অপরূপা আসায় বুকে সাহস ফিরে পেলাম। এক বস্তা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম তাদের দিকে। উত্তর দিলো এক রোবট। আমিতো আরো অবাক।

-কী করে এলাম!

-সরি স্যার, আপনাকে টাইম মেশিনে করে ভবিষ্যতে নিয়ে আসা হয়েছে। আপনি বর্তমানে এম আই টি-এর ২০৪৫ সালের একটি ল্যাবে অবস্থান করছেন।

-আমাকে ও অপরুপাকে কেন নিয়ে আসা হয়েছে।

-স্যার আমাদের একজন গবেষক এমন দুজনকে খুঁজছিলেন যারা দুজন দুজনকে ভালোবাসে কিন্তু এখনো কোনো সম্পর্কে জড়ায়নি। তারপরই আপনাদেরকে পায়। আসলে আমরা দেখতে চাচ্ছিলাম তাদের মস্তিষ্কে আসলে কী চলছে সেটা দেখার জন্য।

- আপনারা কীভাবে বুঝলেন আমি অপরুপাকে ভালোবাসি আর অপরুপা আমাকে ভালোবাসে।

- স্যার আমরা আপনার ও অপরূপার চোখে একে অপরের প্রতি মায়া অনুভব করতে দেখেছি। সেটা পরীক্ষা করার জন্য আমরা আপনাদের চোখের একটি স্ক্যান কপি নিয়ে নিই এবং সেটা ব্যাবহার করে বুঝতে পারি আপনি এবং অপরূপা একে অপরের প্রতি মায়া অনুভব করছেন। (আমি যেন কিছুটা লজ্জিত হয়ে গেলাম)

- আমরা যে ভবিষ্যতে এসে পড়েছি আমরা কী আবার বর্তমানে ফিরে যেতে পারবো?

- অবশ্যই স্যার। তবে আপনাদের মস্তিষ্ক আমরা এখন পরীক্ষা করবো, তারপরই।

- পরীক্ষা করে কী জানা যাবে? অপরূপা আমাকে ভালবাসে কি না তা জানতে পারবো?

- অবশ্যই স্যার আমরা এর মাধ্যমেই আপনাদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করবো। আপনি জানতে পারবেন অপরূপার সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা ও ভালো লাগার বিষয়গুলো আর অপরূপা জানতে পারবে আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা, এমনকি সেটা অনুভবও করতে পারবেন তিনি।

- এরকম সুযোগ ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না, আমি জানতে চাই অপরূপার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা আর ভালোলাগা। তাই কিছু না ভেবে বলেই ফেললাম—তাহলে দেরি কেন করছেন, যা করার তাড়াতাড়ি করুন।

- স্যার আমরা আপনার অপরুপাকে নিয়ে জানার যে আগ্রহ—সেই আগ্রহ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমরা খুব তাড়াতাড়িই ব্যাবস্থা করছি।

রোবট আর আমার কথাবার্তা শুনে অপরূপা প্রায় লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আমিও তার দিকে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারিনি, কেমন যেন লজ্জা লাগছিলো।

আজ একটু বেশিই সুন্দর লাগছে অপরূপাকে।আহা, এই প্রযুক্তিটা যদি ভবিষ্যতে না থেকে বর্তমানে থাকতো তাহলে সবার মনের কথাগুলো জানতে পারতাম!

মস্তিষ্ক পরীক্ষা করার জন্য আর একে অপরের মনের কথা জানার জন্য আমাদেরকে নিউরাললিঙ্ক এক্সেস দিতে হলো আমার আর অপরূপার মস্তিষ্কে চিপ প্রবেশ করানোর মাধ্যমে।আমরা দুজনেই অনুভব করতে লাগলাম একে অপরের প্রতি মায়া ও ভালোবাসা। আমি যা ভাবছি অপরূপা তা জানতে পারছে, আর আমি জানতে পারছি আমার প্রতি অপরূপার মায়া আর মমতা। বুঝতে পারলাম আমার দাঁড়ানোর স্টাইলে ঘেমে যাওয়া খুব মুগ্ধ করেছে অপরূপাকে। এখন খুলে দেওয়া হলো চিপটা। অনুভব করলাম কেউ একজন আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে, বুঝতে পারলাম সে আর কেউ নয়—অপরূপা।

Sunday, April 25, 2021

ইন্টারনেট অব থিংস বা IoT
নেটওয়ার্ক সংযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি ফিজিক্যাল অবজেক্টকে বলা হয় ইন্টারনেট অব থিংস বা IoT (আইওটি)। বুঝলে না! আসলে আমরা জানি যে নেটওয়ার্ক শুধু সাধারণ ডিভাইসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ,অথচ আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়তে যাচ্ছি যার সকল কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা হবে নেটওয়ার্ক দিয়ে।তাই ইন্টারনেট অব থিংস (IoT)কে কখনো কখনো ইন্টারনেট অব এভরিথিং বা IoEও বলা হয়ে থাকে।

IOT
        ইন্টারনেট অব থিংসের প্রতিকী উদাহরণ


একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণ করা হবে নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট দিয়ে, এমনকি ঘর ও ঘরের জিনিসপত্রও বাদ যাবে না এতে। অফিসে বসে ঘরের লক খোলা,এসি,গাড়ির দরজার লক খোলা সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে নেটওয়ার্ক দিয়ে। ভাবতে অবাক লাগে, মাত্র কয়েক দশক আগেও সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লেখকেরাও এর ধারণাও করতে পারেন নি। কিছুদিন পরে হয়তো কল্পকাহিনী আর বাস্তবের সাথে হয়তো খুব বেশি পার্থক্যই থাকবে না।


যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মাইকেল ওয়াং তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে যদি আইওটি-এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তবে আমাদের পোশাকশিল্পের আগুন সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ৯০ ভাগ পর্যন্ত এড়ানো সম্ভব হবে। তাহলে বুঝতেই পারছো আইওটি আমাদের জীবনকে কতটা বদলে দেবে।


এবার আমরা জানবো আইওটি-এর শুরুর গল্প। ইন্টারনেট অব থিংস বা IoT নামক এই পরিভাষাটি সর্বপ্রথম ব্যাবহার করেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-এর অটো-আইডি সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কেভিন অ্যাশটন (Kevin Ashton) ।এরপর থেকেই শুরু হয় ইন্টারনেট অব থিংস বা IoT নিয়ে চিন্তা ভাবনা।


আজ ইন্টারনেট অব থিংসের কল্যাণে ইশারায় স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণ করা যায়,এসি অন/অফ করা যায় শুধুমাত্র ভয়েস দিয়ে।এমন কি অফিসে বসেও এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, আর এগুলো তখনই সম্ভব হবে যখন ইন্টারনেট অব থিংস নামক প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে।

       What is IoT?


ভাবতো,কোনো একদিন অফিস করে এসে ঘরের লক খুলতে হবে না শুধুমাত্র ভয়েস কমান্ডেই খুলে যাবে দরজা।আর ফ্যান কিংবা এসি অন করার জন্য যেতে হবে না সুইচ অন করতে, শুধু মাত্র ভয়েস কমান্ডেই চলবে তোমার এসি।

মনে করো, ভুল করে বাড়িতে ফ্যান চালু করে অফিসে আসলে আর অফিসে বসেই অফ করে দিলে ফ্যান। কেমন হবে তখন! অবশ্যই মজার তাই না।হ্যাঁ আশা করা যায় খুব শিগগিরই আমরা এমন একটা পৃথিবী তৈরি করবো।

Wednesday, April 21, 2021

পাইথনঃ অপারেটর এবং অপারেন্ড


আজকের টিউটোরিয়ালটিতে আমরা পরিচিত হবো পাইথনের বিভিন্ন অপারেটরের সাথে। তোমরা কী জানো পাইথনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপারেটরের ব্যাবহার।

পাইথনে অপারেটর বলতে কী বুঝায়?

অপারেটর হলো বিশেষ কিছু চিহ্ন যা দ্বারা গাণিতিক হিসাব বা কোনো কিছু তুলনা করা যায় এবং সেখানে ব্যাবহৃত সংখ্যা,ভ্যারিয়েবল বা ডেটাকে বলা হয় অপারেন্ড।যেমন ধরো ২ আর ১ যোগ করলে কত হয়? ৩ ,আমরা এই কথাটিকে গাণিতিক ভাবে লিখলে এমন দাঁড়ায় ২+১=৩ । এখানে যোগ করার এবং সেটার ফলাফলের জন্য বিশেষ দুটি চিহ্ন (+) এবং (=) ব্যাবহার করা হয়েছে, পাইথনের ভাষায় যাকে বলা হয় অপারেটর।আর ব্যাবহৃত সংখ্যা অর্থাৎ ২,১ ও ৩ হলো অপারেন্ড

পাইথনে এমন অনেক ধরনের অপারেটর রয়েছে।যা নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো। চলো শুরু করা যাক।

অ্যারিথমেটিক (Arithmetic) অপারেটর

অ্যারিথমেটিক (Arithmetic) অপারেটর ব্যাবহৃত হয় মূলত গাণিতিক হিসাব যেমনঃ যোগ করা, বিয়োগ করা,গুণ করা ও ভাগ করার কাজে।

অপারেটর বর্ণনা উদাহরণ
 +  দুই পাশের অপারেন্ড দুইটাকে যোগ করা এই অপারেটরের কাজ।   x + y+ 2
 -  বাম পাশের অপারেন্ড থেকে ডান পাশের অপারেন্ড বিয়োগ করা এই অপারেটরের কাজ।  x - y- 2
 *  দুইটা অপারেন্ড-এর একটাকে অন্যটা দিয়ে গুণ করা এই অপারেটরের কাজ।  x * y
 /  বাম পাশের অপারেন্ডকে ডান পাশের অপারেন্ড দিয়ে ভাগ করা এই অপারেটরের কাজ।  x / y
 %  বাম পাশের অপারেন্ডকে ডান পাশের অপারেন্ড দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষ রিটার্ন করা এই অপারেটরের কাজ।  X % Y
 //   বাম পাশের অপারেন্ড হয় বেস আর ডান পাশের অপারেটর হয় পাওয়ার।  x // y
 **  সাধারণত দশমিকের পরের সংখ্যা skip করে যায়।  x**y


অ্যারিথমেটিক অপারেটরের কিছু ব্যাবহারঃ
x = 15
y = 4

# Output: x + y = 19
print('x + y =',x+y)

# Output: x - y = 11
print('x - y =',x-y)

# Output: x * y = 60
print('x * y =',x*y)

# Output: x / y = 3.75
print('x / y =',x/y)

# Output: x // y = 3
print('x // y =',x//y)

# Output: x ** y = 50625
print('x ** y =',x**y)

কমপারিজন (Comparison) অপারেটর

কমপারিজন (Comparison) অপারেটর ব্যাবহার করা হয় কোনো কিছু তুলনা করতে। সত্য ও মিথ্যার তুলনা করা হয় এই অপারেটর ব্যাবহার করে।

অপারেটর বর্ণনা উদাহরণ
 > যদি ডান পাশের অপারেন্ড-এর চেয়ে বাম পাশের অপারেন্ড বড় হয় তবে শর্তটি সত্যি হবে।  x > y
 <  যদি ডান পাশের অপারেন্ড-এর চেয়ে বাম পাশের অপারেন্ড ছোট হয় তবে শর্তটা সত্যি হবে।  x < y
 ==  যদি দুই পাশের দুইটি অপারেন্ড সমান হয় তবে শর্তটা সত্যি হবে।  x == y
 !=  যদি দুই পাশের দুইটি অপারেন্ড সমান না হয় তবে শর্তটা সত্যি হবে।  x != y
 >=  যদি ডান পাশের অপারেন্ড-এর চেয়ে বাম পাশের অপারেন্ড বড় বা সমান হয় তবে শর্তটা সত্যি হবে।  x >= y
 <=  যদি ডান পাশের অপারেন্ড-এর চেয়ে বাম পাশের অপারেন্ড ছোট বা সমান হয় তবে শর্তটা সত্যি হবে।  x <= y

কমপারিজম অপারেটরের কিছু ব্যাবহারঃ
x = 10
y = 12

# Output: x > y is False
print('x > y is',x>y)

# Output: x < y is True
print('x < y is',x<y)

# Output: x == y is False
print('x == y is',x==y)

# Output: x != y is True
print('x != y is',x!=y)

# Output: x >= y is False
print('x >= y is',x>=y)

# Output: x <= y is True
print('x <= y is',x<=y)


লজিক্যাল (Logical) অপারেটর

লজিক্যাল (Logical) অপারেটর মাত্র ৩টি। এগুলো হলো and,or,not.


অপারেটর বর্ণনা উদাহরণ
 and যদি অপারেন্ড দুইটিই সত্যি হয়, তাহলেই কেবল শর্তটা সত্যি হবে।  x and y
 or  দুইটি অপারেন্ড-এর যেকোন একটি সত্যি হলেই শর্তটা সত্যি হবে।  x or y
 not  সত্য অপারেন্ড-এর আগে not দিলে তা মিথ্যা হয়ে যাবে এবং মিথ্যা অপারেন্ড-এর আগে not দিলে তা সত্য হয়ে যাবে।  not x

লজিক্যাল অপারেটরের উদাহরণঃ
x = True
y = False

print('x and y is',x and y)

print('x or y is',x or y)

print('not x is',not x)


অ্যাসাইনমেন্ট (Assignment) অপারেটর
অ্যাসাইনমেন্ট অপারেটর



পাইথনে অ্যাসাইনমেন্ট (Assignment) অপারেটর ব্যাবহার করা হয় মূলত ভ্যালুকে ভ্যারিয়েবল-এ অ্যাসাইন করার জন্য অর্থাৎ ভ্যারিয়েবল-এর মান নির্ধারণ করার জন্য।


যেমন ধরো a = 5 , এখানে a হচ্ছে ভ্যারিয়েবল এবং 5 হচ্ছে তার ভ্যালু। লক্ষ্য করো এখানে কিন্তু সমান চিহ্ন (=) ব্যবহার করে 5 কে a এর ভিতরে স্টোর করা হয়েছে। অর্থাৎ সমান চিহ্নটি হচ্ছে একটি অ্যাসাইনমেন্ট (Assignment) অপারেটর।

অপারেটর উদাহরণ Equivalent to বর্ণনা
 =  x = 5  x = 5
 ডান পাশের অপারেন্ড বাম পাশের অপারেন্ড-এ অ্যাসাইন করে।
 +=   x += 5  x = x + 5  দুই পাশের অপারেন্ড যোগ করে যোগফল বাম পাশের অপারেন্ড-এ অ্যাসাইন করে।
 -=  x -= 5  x = x - 5  বাম পাশের অপারেন্ড থেকে ডান পাশের অপারেন্ড বিয়োগ করে বিয়োগফল বাম পাশের অপারেন্ড-এ অ্যাসাইন করে।
 *=  x *= 5  x = x * 5  দুই পাশের অপারেন্ডে-এর একটাকে অন্যটা দিয়ে গুণ করে গুণফল বাম পাশের অপারেন্ড-এ অ্যাসাইন করে।
 /=  x /= 5  x = x / 5 বাম পাশের অপারেন্ডকে ডান পাশের অপারেন্ড দ্বারা ভাগ করে ভাগফল বাম পাশের অপারেন্ড-এ অ্যাসাইন করে।

আইডেন্টিটি (Identity) অপারেটর

পাইথনে দুইটি আইডেন্টিটি (Identity) অপারেটর রয়েছে।


অপারেটর বর্ণনা উদাহরণ
 is যদি দুই পাশের অপারেন্ড দুইটি একই অবজেক্টকে নির্দেশ করে, তাহলেই কেবল শর্তটা সত্যি হয়।  x is True
 is not যদি দুই পাশের অপারেন্ড দুইটি একই অবজেক্টকে নির্দেশ না করে,তাহলেই কেবল শর্তটা সত্যি হবে।  x is not True

আইডেন্টিটি অপারেটরের উদাহরণঃ
x1 = 5
y1 = 5
x2 = 'Hello'
y2 = 'Hello'
x3 = [1,2,3]
y3 = [1,2,3]

# Output: False
print(x1 is not y1)

# Output: True
print(x2 is y2)

# Output: False
print(x3 is y3)


মেম্বারশিপ (Membership) অপারেটর

in এবং not হচ্ছে পাইথনে ব্যাবহৃত কেবলমাত্র দুইটা মেম্বারশিপ (Membership) অপারেটর। 

অপারেটর বর্ণনা উদাহরণ
 in যদি বাম পাশের অপারেন্ডটি ডান পাশের অপারেন্ড-এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলেই কেবল শর্তটা সত্যি হয়।  5 in x
 not in যদি বাম পাশের অপারেন্ডটি ডান পাশের অপারেন্ড-এর মধ্যে খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলেই কেবল শর্তটা সত্যি হবে। 5 not in x

মেম্বারশিপ অপারেটরের উদাহরণঃ
x = 'Hello world'
y = {1:'a',2:'b'}

# Output: True
print('H' in x)

# Output: True
print('hello' not in x)

# Output: True
print(1 in y)

# Output: False
print('a' in y)